পরিচালক
পদে নির্বাচন করতে আগ্রহীদের ভিড় লেগে গেলেও সভাপতি হতে চান না কেউই। নিজের
দেখা থেকে এমন উপসংহারেই পৌঁছাতে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট
বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানকে। অবাক করা ব্যাপার হলো, খুঁজতে গিয়ে নিজেকেই এই ক্রিকেট প্রশাসক
কখনো কখনো আবিষ্কার করেন সমস্যার মূলে। তিনি বলেন, ‘জানি না, আমার মনে হয় আমিই সমস্যা,
সমস্যাটা আমিই।’
আপাতত
এই সমস্যার সমাধানও দেখেন না নাজমুল। নতুন
কেউ সভাপতির দায়িত্বে আসতে চাইলে তাঁকে স্বাগত জানাতে তিনি এক পায়ে খাড়া।
কিন্তু তিনি নিজে যতক্ষণ সশরীরে আছেন, ততক্ষণ কেউ এগিয়ে আসবেন বলেও মনে হয় না টানা
তৃতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নাজমুলের। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শেষ সভার পর গতকাল তিনি
সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি যদি এখানে (বিসিবিতে) থাকি, আমার একটা জিনিস মনে হচ্ছে যে আমি মারা
যাওয়ার আগ পর্যন্ত আর
কেউ এই পদ (সভাপতি)
নিতে চাইবে না। আমি চাই, আমার বোর্ডে যে-ই আসুক,
তাদের চ্যালেঞ্জ করা উচিত যে, আমি সভাপতি হতে চাই। তারা বলুক—এখন তো কেউ বলেও
না।’
না
বলার এই চর্চাকে ভালো
লক্ষণ বলেও মনে করেন না তিনি, ‘এটা
ভালো লক্ষণ নয়, তা আপনাদের বলতে
পারি। কারো জন্য কিছু আটকে থাকে না। আমাদের একটা পাইপলাইন থাকা উচিত, যারা নতুন নতুন দায়িত্ব নেবে। এটার জন্য আমি চাচ্ছি, নেতৃত্ব গড়ে ওঠা উচিত।’ নিয়মানুযায়ী বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে সবার আগে কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হবেন পরিচালকরা। এর পরিচালকদের ভোটাভুটিতে
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই মেয়াদে
নাজমুল ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্ব্বীহীন। ২০১২ সালে সরকারের মনোনয়নে সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৩ ও
২০১৭ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন নাজমুল। এবারও
সেরকম কিছু হোক, তা চান না
নাজমুল।
অন্তত
বিসিবি সভাপতি হওয়ার মতো নেতৃত্বগুণ অনেকের আছে বলেও মনে করেন তিনি, ‘বাংলাদেশে নেতৃত্বের অভাব নেই। কিন্তু কোনো কারণে কেউ আসতে চায় না। পরিচালক হতে সবাই চায়। এমন কেউ নেই যে পরিচালক হতে
চায় না। কিন্তু সভাপতি পদের কথা বললে কেউ নাম বলে না। কেন বলে না, আমি জানি না।’ এবার পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর নাজমুল নিজে
সভাপতি না থাকার প্রস্তাব
তুলবেন বলেও জানিয়ে রাখলেন, ‘যদি আমি জিতে আসি, প্রথমে আমি থাকব একজন পরিচালক। যদি তখন আমাকে কেউ বলে, আমার প্রথম আবেদনই থাকবে, সভাপতি হতে চাই না। তবে আমি সেখানে থাকব সাপোর্ট করার জন্য। তার পর কী হবে,
জানি না। এটা পরের ওপর নির্ভর করবে।’ আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্যানেল না রাখার পুরনো
কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিসিবি সভাপতি, ‘নতুন নতুন আইডিয়া, নতুন মানসিকতার লোক যদি না আসে ক্রিকেট
বোর্ডে, তাহলে নতুন কিছু করার আইডিয়া আসে না। সব একই ধারায়
চলতে থাকে। এবার তাই মনে-প্রাণে চাচ্ছি, নতুন লোক আসুক। সে জন্য এবারই
প্রথম, আমার কোনো প্যানেল নেই। যে খুশি দাঁড়াতে
পারবে। নির্বাচন হবে, যে জিতবে সে
আসবে।’ বোর্ডের সর্বশেষ সভার পর কাল নাজমুল
এ-ও জানালেন যে,
২০২৩-২০৩১ মেয়াদে একটি আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এককভাবে আয়োজনের জন্য আবেদন জানিয়েছে বিসিবি। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সঙ্গে
যৌথভাবে একটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
আয়োজক হওয়ারও দাবি জানিয়েছে বিসিবি।
