বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় এগিয়ে আনার সম্ভাবনা

দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধের পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীর ক্লাসের সময়ও এগিয়ে আনা হবে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা বলা হয়েছিল।

 

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল শুক্রবার বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে তাঁরা আবারও বসবেন। উপাচার্যরা যদি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই সঙ্গে খুলতে রাজি হন, তাহলে খুলবেন কিংবা ভিন্ন কোনো তারিখও নির্ধারণ করতে পারেন।

           দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে              দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১              সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের ২৪ আগস্ট প্রকাশিত               প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিডের কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ রয়েছে এমন দেশের তালিকায়                  বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে। দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার                 কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাল রবিবার একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, খোলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে একটি দিকনির্দেশনা ঠিক করেছে। দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকা নিতে বলা হয়েছে। এরপর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়া। সেই পথরেখা অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর টিকা নেওয়ার তথ্য দেখে হল খোলার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া খোলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্রসংগঠন নিয়ে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভা ডাকা হয়েছে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, তাঁরা আশা করছেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারবেন। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এর মধ্যে পড়বে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।


শুরুতেই সব শ্রেণির ক্লাস হবে না। ধাপে ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। প্রথমে হয়তো এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি এবং আগামী বছরের এই দুই স্তরের পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিনই ক্লাস করবে। বাকি শ্রেণির ক্লাস হয়তো গোড়াতে এক দিন করে হবে। পরে অবস্থা বুঝে ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অনলাইন ও টেলিভিশনের ক্লাসও চলবে।


গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, খুব তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। তার এক দিন পরেই উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা এল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে করোনা-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির কাছে পরামর্শ চেয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেয় পরামর্শক কমিটি।

একই দিন মেডিকেল কলেজসহ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেখানেও একসঙ্গে না করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজের প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম বর্ষের ক্লাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর।করোনার সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ হার থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। তা ছাড়া ধীরে ধীরে করোনার টিকা প্রাপ্তিও নিশ্চিত হচ্ছে। এ জন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হচ্ছে।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post