লিঙ্গসমতার জন্য নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে নারী নেতাদের একটি নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেনএই নেটওয়ার্ক লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

 বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব রাখেনলিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে যেগুলো সঠিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।

 প্রধানমন্ত্রী প্রথম প্রস্তাবে বলেন, ‘আমি লিঙ্গসমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের প্রত্যেক পর্যায়েবিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারি।

 দ্বিতীয়ত প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেননারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক  আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা প্রয়োজন।  ধরনের প্রচেষ্টায় সহায়তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

 তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি লিঙ্গসমতার জন্য আমাদের সাধারণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে নেতৃবৃন্দের একটি সম্মেলন ডাকার করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু আমরা নয়সকল নেতার এতে যোগদান করা উচিত। লিঙ্গসমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করা উচিত।

 প্রধানমন্ত্রী আরও বলেনকোভিড-১৯-এর প্রভাব বিশেষত নারীদের জন্য কঠিন। অবৈতনিক যত্ন নেওয়ার কাজ বেড়েছে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। ইউনিসেফ  দশকের শেষের আগে আরও ১০ মিলিয়ন বাল্যবিবাহের আশঙ্কা করছে।

 বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেননারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে আছে। বর্ধিতসংখ্যক নারী কর্মী বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।

 প্রধানমন্ত্রী বলেনদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী। তাঁরা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন। তৈরি পোশাককর্মীদের ৮০ শতাংশের বেশি নারী। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। মহামারিকালে তাঁদের অনেকে চাকরি  আয় হারিয়েছেন। নারীসহ ২০ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। দেশের কষ্টার্জিত অগ্রগতির চাকা পেছনে ঘোরার ঝুঁকিতে রয়েছে।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post